ছায়াময় - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
তার নাম ছায়াময়। হয় সে মানুষ, নয় সে শিমুলগড়ের পুরনো ভূত। তবে, মানতেই হবে, সে যদি মানুষ হয়, খুব মহৎ মানুষ। আর যদি ভূত হয়, খুব উপকারী ভূত ছায়াময়। নইলে কি আর অলঙ্কার খুঁজে পেত ইন্দ্রকে? সেই তো যোগাযোগটা ঘটিয়ে দিলে। আর তাইতেই তো সার্থক হল ইন্দ্রর সেই সুদূর বিলেত থেকে রায়দিঘিতে ছুটে আসা। তোমরা হয়তো ভাবছ, কে ইন্দ্র আর কে অলঙ্কার, সেটাই তো জানা হল না। জানবে, জানবে। কেন-যে শিমুলগড়ে রাতারাতি শোরগোল পড়ে গেল খুন আর চোরাই মোহর নিয়ে, কেন-যে কাপালিক কালী বিশ্বাসকে ভাড়াটে গুণ্ডা লাগিয়ে চুপ করিয়ে দিতে চায় গগন সাঁপুই, কেন-যে লক্ষ্মণ পাইক শুধু এমন লোক খুঁজে বেড়ায় যার দুটো হাতই বাঁ-হাত কিংবা দন্ত্য ন দিয়ে নামের শুরু—এই সমস্ত কথা জানবে। মজায়, চমকে, রহস্যে ভরপুর এই দুর্দান্ত উপন্যাসে।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২রা নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময়, তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরীরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত। তার প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে ঐ একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে ঘুণ পোকা নামক তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তার প্রথম উপন্যাস মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় মানবজমিন উপন্যাসের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।
বিস্তারিত