web analytics
মিসির আলী সিরিজের তৃতীয় বই
সিরিজ
বিভাগ উপন্যাস
ভাষা
স্বত্ব
ডাউনলোড
মিসির আলি সিরিজের তৃতীয় বই ‘নিষাদ’। আর অত্যাবশকীয় ভাবে মিসির আলির উপস্থিতি বিদ্যমান। তিনি আছেন তাঁর স্বীয় অবস্থানে। এবং তার কাছে, আবারো নতুন মানুষ। আবারো নতুন রহস্য। সে রহস্যে লেখক এবং মিসির আলি দুজনে মিলে পাঠককে প্রভাবিত করেন। এবং শেষ পর্যন্ত এমন একটা জায়গায় গিয়ে চিন্তাধারা আটকে যায়। যেখানে বার বার মনে হতে থাকে সত্যিই এমন হয়! হতে পারে? সম্ভব!
যাই হোক, এবারের ব্যক্তির নাম মো. রইসুদ্দিন। রোগা মতন একটা লোক যিনি মিসির আলির সামনে মাথা নিচু করে বসে আছেন। এর আগেও তিনি একবার এসেছিলেন এবং চিঠি দিয়ে গেছিলেন সোমবার আসবেন বলে। কিন্তু তিনি আসেন নি। আজ এসেছেন। অথচ কেন এসেছেন সেটা তিনি বলতে চাইতেছেন না। মিসির আলি অনেক বার বলার পর তিনি বসলেন, তবুও অনেকটা অসস্তিতে। তার থেকেও একটি আশ্চর্য জনক কথা হলো। লোকটি প্রথমেই মিথ্যা বলেছেন। আর মিসির আলি সেটা ধরে ফেলেন। সে তার নাম নিয়ে মিথ্যা বলেছেন, তার ভালো নাম মূলত মনির। ডাক নাম টুনু। তো, এই মনির আমাদের মিসির আলির নতুন পেসেন্ট।
তার সমস্যা সম্পর্কে জানা যাক এবার। মনির আমাদের মতো সাধারণ কেউ নয়। কেননা আমাদের সাধারণ মানুষের তো একটা জীবন থাকে। যে সময়টা আমরা পৃথিবীতে বেঁচে থাকি। একটা অবস্থান থাকে আমাদের। জন্ম থেকে ধীরে ধীরে বড় হই। এক সময় পৃথিবীতে আমাদের কাজ ফুরিয়ে যায়। আমরা মারা যাই। আমাদের জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা চান্স থাকে, যে সময় চলে যায় তাতে আর আমরা ফিরে যেতে পারি না। স্বভাবতই আমরা আমাদের অতীতের কোন ভুল শোধরাতে পারি না। এমন কি নিজের ভূলে কোন বড় ধরনের এক্সিডেন্ট করে থাকি তাও এড়িয়ে যেতে পারি না। সময় চলে গেলে আবার যে ফিরে গিয়ে সব গুলো সমাধান করতে পারবো সে চান্সও নেই। তাই বলা যায় জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা একই ভাবে বেড়ে উঠি এবং তা এক সময় সমাপ্ত হয়। কিন্তু মনিরের বেলায় ভিন্ন। সে এক জগতে বাস করে না। তার বসবাসের জগত কয়েকটা। অবাক হওয়ার মতোই বিষয়। এটা কি করে সম্ভব? কিন্তু তাই তো হচ্ছে মনিরের সাথে। আর এখানেই মনির আমাদের থেকে আলাদা এবং অদ্ভূত একজন মানুষ। এমনকি একেক জগতে সে একেক রকম। যেমন—এক জায়গায় সে অসহায় এতিম। তার মা বাবা নেই। কিন্তু অন্য এক জায়গায় তার বাবা আছেন। আবার কোথাও সে বিয়ে করেছে এমনকি তার সন্তানও আছে। আর অন্য জায়গায় সে পুত্র হারা। একই সাথে এতো গুলো জায়গায় বিচরণ করতে করতে সে ক্লান্ত। এবং সে এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। তাই মিসির আলির কাছে আসা।
কিন্তু এসবের কিছুই মিসির আলী বিশ্বাস করেন নি। তিনি সমাধান এভাবে দেখালেন যে, মনির একই সাথে ভিন্ন জীবনের স্বপ্ন দেখছে। আর এগুলো তার কাছে সত্যি অনুভব হচ্ছে। তাই সে ভাবছে একই সাথে কয়েককটি জগতে সে বাস করছে। এরপর মিসির আলির অবাক হওয়ার পালা। কারণ, মনির যে অন্য জগতে যেতে-আসতে পারে তার প্রমাণ দেখাতে অন্য জগত থেকে আনা প্রেসক্রিপশন মিসির আলিকে দেখালেন। এটা আরো বেশি দৃঢ় করতে আরো অনেক কিছু তিনি অন্যজগত থেকে নিয়ে আসতে থাকলেন। এক সময় ইচ্ছা না থাকা স্বত্বেও মিসির আলি এটা বিশ্বাস না করে এড়িয়ে যেতে পারলেন না। প্রচণ্ড যুক্তিবাদী মানুষ, বিশ্বাস করতে বাধ্য হলেন। মানুষ তার জীবনে একই সাথে ভিন্ন জগতে বাস করতে পারেন। কিন্তু এনিয়ে চলল তার বিস্তর পড়াশোনা। শেষ পর্যন্ত, মনিরের কি অবস্থা হয়েছিলো। বা মিসির আলি কি সেই রহস্য উদ্ধার করতে পেরেছিলেন?
শুধুই কি চাপে পড়ে বিশ্বাস নাকি আরো কিছু জেনেছিলেন তিনি? প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম সায়েন্স ফিকশন টাইপ গল্প “নিষাদ”। অবাস্তব হলেও লেখক যে দ্বৈত জীবন দেখিয়েছেন তা কিন্তু সত্য। কিন্তু কিভাবে সত্য তা মিসির আলিই দেখাবেন। হুমায়ূন আহমেদ এই গল্পে আশ্চর্য একটি জিনিস দেখিয়েছেন। এই গল্পে ফোকাস বেশি মনিরের উপরেই ছিলো, মিসির আলি যে ছিলেন না তা নয়। তবে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে মনিরকেই বলা যায়। যাই হোক, মিসির আলি তার যুক্তির জায়গা থেকে কী করে মনিরের সমস্যা সমাধান করেছিলেন, বা পেরেছিলেন কিনা? তা জানতে পাঠককে একেবারে শেষ পর্যন্ত যেতে হবে। প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে যাদের আগ্রহ বেশি তাদের বেশ ভালো লাগবে।
Read online or Download this book

© বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুসারে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

এই বইটির স্বত্বাধিকার লেখক বা লেখক নির্ধারিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের, অর্থাৎ বইটি পাবলিক ডোমেইনের আওতাভূক্ত নয়৷ কেননা, যে সকল বইয়ের উৎস দেশ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুসারে, লেখকের মৃত্যুর ষাট বছর পর স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত অথবা বেনামে বা ছদ্মনামে ও মরণোত্তর প্রকাশিত রচনা বা গ্রন্থসমূহ প্রথম প্রকাশের ষাট বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ, ১ জানুয়ারি, 2020 সাল হতে 1960 সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে। এবং 1960 সালের পরে প্রকাশিত বা মৃত লেখকের বইসমূহ পাবলিক ডোমেইনের আওতাভূক্ত হবে না৷

আইনি সতর্কতা

প্রকাশক এবং স্বত্বাধিকারীর লিখিত অনুমতি ছাড়া এই বইয়ের কোনও অংশেরই কোনওরূপ পুনরুৎপাদন বা প্রতিলিপি করা যাবে না, কোন যান্ত্রিক উপায়ের (গ্রাফিক, ইলেকট্রনিক বা অন্য কোনও মাধ্যম, যেমন ফটোকপি, টেপ বা পুনরুদ্ধারের সুযোগ সম্বলিত তথ্য-সঞ্চয় করে রাখার কোনও পদ্ধতি) মাধ্যমে প্রতিলিপি করা যাবে না বা কোন ডিস্ক, টেপ, পারফোরেটেড মিডিয়া বা কোনও তথ্য সংরক্ষণের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুনরুৎপাদন করা যাবে না। এই শর্ত লঙ্ঘিত হলে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
আপনার জন্য প্রস্তাবিত বইসমূহ
মন্তব্য করুন
Scroll Up
WhatsApp chat